২০২৫ সালের শেষ দিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর ঢাকায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে প্রকাশ্যে করমর্দন করেন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দাফনে অংশ নিতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে এই করমর্দন সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে দেখা দেওয়া তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের বিশ্লেষকরা একে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের মাঝে সামান্য উষ্ণতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, যদিও ভারতের কিছু বিশ্লেষক এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখেছেন। এর আগে কাশ্মীরে হামলা, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত এবং মে মাসের আকাশযুদ্ধ দুই দেশের সম্পর্ককে গভীর সংকটে ফেলেছিল। সাবেক কূটনীতিক সরদার মাসুদ খান এই করমর্দনকে কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের ইঙ্গিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে সামনে অনেক বাধা রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সংলাপ ও আস্থাবর্ধক পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থিতিশীল করা সম্ভব হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো বড় প্রতিবন্ধক।
ঢাকায় জয়শঙ্কর-সাদিক করমর্দন দুই দেশের সম্পর্কে সামান্য উষ্ণতার ইঙ্গিত
পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক *ডন*-এ প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয় কার্টুন দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত ওই কার্টুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি বিশাল বাঘের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যার গায়ে লেখা “Bangladesh।” শিল্পী রোহাইত ভাগবন্তের এই প্রতীকী চিত্রকে বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস ও ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে।
এই ঘটনার পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের দল পিএমএল–এনের যুব নেতা কামরান সাঈদ উসমানি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত থাকবে। তিনি ভারতের বিরুদ্ধে ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সামরিক জোটের প্রস্তাব দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এমন কোনো পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ডনের কার্টুনে মোদিকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা
বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ তীব্র তাপদাহের ঝুঁকিতে পড়বে এবং প্রতি চারজনের একজন বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পানি ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় এলাকায় জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে প্রতিবেদনে নামমাত্র ও স্বল্প ব্যয়ের সমাধান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে বড় কোনো সরকারি উদ্যোগ নেই। বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সংকট আরও তীব্র হতে পারে যদি আগাম দুর্যোগ সতর্কতা, স্মার্ট কৃষি ও অভিযোজন বাজেটের পরিধি না বাড়ানো হয়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ সিদ্ধার্থ শর্মা বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু মোকাবেলার গতি ধীর, তাই সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসাথে কাজ করতে হবে।
বিশ্বব্যাংক বলছে ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার ৯০% মানুষ তীব্র তাপদাহের ঝুঁকিতে পড়বে
দক্ষিণ এশিয়ার শীতকালীন বাজারে এখন ভরপুর টাটকা পানি শিঙাড়ায় (পানি ফল), যা শুধু সুস্বাদু নয় বরং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ভিটামিন বি–৬ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদ্স্বাস্থ্য, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। জটিল কার্বোহাইড্রেটের কারণে এটি শরীরে স্থায়ী শক্তি দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়ায় না। উচ্চ ফাইবার হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে, আর এর উচ্চ পানির পরিমাণ শরীরকে হাইড্রেট রাখে ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে। কম ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ই ত্বক ও চুলের যত্নে উপকারী। ডায়াবেটিস রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন। কাঁচা, সেদ্ধ বা আটা হিসেবে—সবভাবেই পানি শিঙাড়া শীতের জন্য একটি আদর্শ স্বাস্থ্যকর খাবার।
হৃদ্স্বাস্থ্য ও রোগপ্রতিরোধে উপকারী শীতের পুষ্টিকর ফল পানি শিঙাড়া
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৫৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।